By K.M. Kaisarul Islam
সকাল ৮টা। সূর্য এখনও বেশ মিষ্টি, রোদ আদর দিচ্ছে মাটিকে। জুন মাসের তীব্র রোদ দুপুরের আগে আসে না। তবে এই সকালের মিষ্টি অথবা দুপুরের তীব্রতার মধ্যে একটি- ও অনুভব করার প্রয়োজন নেই তার, কারণ সে তো কেবল ঘুমোতে যাচ্ছে।
কারণ কী? হয়তো সারা রাত প্রেম করেই কাটিয়ে ফেলেছে সে।
তবে তার তো কোনো প্রেমিক নেই।
তাহলে কার সঙ্গে কাটিয়েছে সে পুরো রাত?
কারও সঙ্গে নয়, একা। ছিল শুধু এক নেশা।
নতুন এক নেশা এসেছে। এই নেশা মা-ই সবার আগে লক্ষ্য করেন। তবে মা তাকে এই নেশা করতে মানা করার কিছুদিন পর নিজেই আবার নেশাগ্রস্ত হয়ে যান। এই নেশা খুবই সংক্রামক—লক্ষ্য করলেই নেশা হয়ে যায়। সেও পুরো রাত এই নেশাতেই কাটিয়েছে। এই নেশা সবখানেই করা যায়—বাথরুমে, বিছানায়, বাইরে, হাঁটার সময় কিংবা শুয়ে—সব সময়ই করা যায়। আধুনিক নেশা, খুবই। এই নেশা একবার তোমাকে ধরে ফেললে আর কখনো এই নেশা ছাড়া কিছু করতে পারবে না—না পারবে খেতে, না পারবে ত্যাগ করতে।
এই নেশা কিছুদিন আগে জয়জিতের বাবাকেও আক্রমণ করে। তখন ডাক্তার সাহেব জয়জিতকে জানান, তার বাবা ৬৬% কম পলক ফেলেন।
ডাক্তারের সম্পূর্ণ রিপোর্টের কিছু অংশ নিচে দেওয়া হলো:
১. অ্যাস্থেনোপিয়া—৬৬% কম পলক ফেলছেন
২. ড্রাই আই ডিজিজ (DED)
৩. মায়োপিয়া
৪. দীর্ঘমেয়াদি রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশনের প্রভাব
৫. হুদাই হাসাহাসি
৬. পিঠ গুঁজে যাওয়া
৭. রাতের খাবার খেতে ভুলে যাওয়া
৮. ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ সব আবেগ “deep feelings” নামক পেজ থেকে নেওয়া
৯. মানুষ থাকতে একাকীত্ব অনুভব করা
১০. “Love”-কে “luv” বানিয়ে, “depression”-এর “depresso” খেয়ে “delulu syndrome”-এ ভোগা
১১. বন্ধু থাকার ভ্রম (হ্যালুসিনেশন) হওয়া
১২. মস্তিষ্ক পোঁচে যাওয়া বা brain rot হওয়া
ইত্যাদি।
এই নেশা আবার ছাড়া এত সহজ নয়। তবে অনেকেই এই নেশা ছাড়ার মিথ্যা ভান করে, এবং সেই মিথ্যা ভান তারা ঘোষণাও করে।
এই নেশায় আমার দাদিও ফেঁসে গেছেন। তাই এখন আর গ্রামের সেই পেয়ারা নামক মহিলার ছেলে-মেয়েদের পেয়ারা গাছে ওঠার গল্প না বলে, “পুঁকি” নামক হুজুরদের বলা সাহিত্যজ্ঞান বেয়ে আমাদের জাতি কত বড় বিপরীতমুখী বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে—তা আমার কাছে এসে বলেন।
এই নেশার সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো—ইংরেজিতে যাকে বলে “denial”।
এই নেশা আমাকে ধরেনি, আমি ঠিক আছি।
