(গল্প) এক নিরাপদ জায়গা

By Rowzat Tahania


বাথরুমের ছাদের দেয়ালের কিছু অংশ ভাঙা, রক্তাক্ত মেঝেতে মরে পরে আছে শিল্পী। দেয়াল ভেঙে মাথায় পড়েছে। বডি ঘিরে সবার একই প্রশ্ন: দেয়াল ভাঙলো কিভাবে?

নিজের নাম নিজেই রাখে শিল্পী। মূলত ছবি আঁকা, কবিতা লিখা, ও গানের চর্চা করতে। কিন্তু এসব সাংস্কৃতিক কার্যকলাপ হিন্দুদের কাজ, ঘৃণার কাজ। মুসলমান পরিবারে তার জন্ম হলেও, নিজে খুব একটা ধার্মিক ছিলেন ন, নামাজ কালাম পড়তেন ন। এসকল ব্যাপার, আর সাথে শিল্প চর্চা গ্রামের মানুষদের, বিশেষ করে হুজুরদের চোখে ছিল গুনাহ। 

সম্মান দেয়া তো দূরের কথা, প্রকাশ্যে তাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলা হত।

“এসব কইরা করে খুশি করবার চাও, মাসুম? না গ্রামের লোকজন সন্তুষ্ট, না আমরা সন্তুষ্ট, আর না আল্লাহয় সন্তুষ্ট। সবাই ক্ষেপার আগে এসব ভারতীয় পন্থা ছাইড়া দাও। কাফেরদের স্বরূপ আচরণ কইরো না, কইয়া দিলাম।” 

নিজের ভাইয়ের তরফ হতেই যদি এসব শোনা লাগে, তাহলে যাবারই বা কোন জায়গা আছে? একজন শিল্পীর না আছে তার নিজের গ্রামে দাম, না আছে গ্রাম ছেড়ে কোথাও যাওয়ার।

শুধু আছে একটা ঘর, চিৎকার করার জন্য এক নিরাপদ জায়গা।

বাড়ির পিছে একটা ছোট্ট, চারকোনা দেয়ালের টয়লেট। এখানে কেউ আর তাকে বিরক্ত করতে আসবে না। যেই কারণেই হোক, এখানে প্রতি রাত এসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে সে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। নামাজ পরে না, কিন্তু এখানে এসে ঠিকই আল্লাহকে ডাকে। 

“শিল্পী…”

এই ছোট্ট ঘরের মধ্যে তো তার সাথে আর কেউ নেই। তাহলে…

“ওপরে, শিল্পী। ভয় পেয়ো না, তুমিই ডেকেছো। এদিকে এসো…”

শিল্পী আস্তে আস্তে বুঝতে শুরু করে কি হচ্ছে, এবং তার উত্তেজনা ক্রোমাগত বাড়তে থাকে। সত্যিই কি…?

“মাসুম শিল্পী, দেরি করো কেন?”

শিল্পী আর দেরি করেনি। দৌড়ে বাড়ি থেকে শুধুমাত্র মোই আর দেয়াল ভাঙার জন্য কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে ফিরে গেলো তার নিরাপদ জায়গাটিতে, যেখানে তার ডাক অবশেষে সারা পেয়েছে।  

সমাপ্তি