তাসনিমা তাহসিন তুষ্টি
২০৪০ সাল। আমার মেয়েটার বয়স ১০। প্রতিদিনের মতো স্কুল থেকে বাড়ি এসে আমার সাথে রাজ্যের গল্প জুড়ে দিয়েছে মেয়েটা। কিন্তু আজ ওকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে।
কি হয়েছে মা তোমার?
-আম্মু আজকে স্কুলে একটা নতুন টপিক পড়েছি। সেটা নিয়েই একটু কিউরিসিটি হচ্ছে।
তাই নাকি! কি টপিক?
-২৪ এর কোটা আন্দোলন। আচ্ছা আম্মু, তুমি তো এই আন্দোলন দেখেছ। তাহলে তুমি এইসময় কি করেছিলে?
প্রথমেই শুনে বেশ ভালো লাগা কাজ করেছিল যে এতবছর পর এসেও আমাদের ছেলেমেয়েরা সেই সময়ের আন্দোলনের কথা জানতে পারছে। তাদেরকে এগুলো পড়ানো হচ্ছে। হঠাৎ করেই ১৬ বছর আগের ঘটনাগুলো মাথায় চক্কর দিলো। নাহ! “মুগ্ধর সেই পানি নেবেন, পানি?”, আর আবু সাঈদের গুলির সামনে বুক পেতে দেওয়া কিচ্ছু তো ভুলিনি! কিন্তু পরের প্রশ্নটা কেমন যেনো বুকে গিয়ে বিধলো। আসলেই তো, কি করেছিলাম?
আমি বললাম, জানো, আমার অনেক ইচ্ছা ছিল লড়াই করার। কিন্তু ইচ্ছা সত্ত্বেও রাজপথে দাঁড়াতে পারিনি। আমাকে বাসা থেকে কোনোভাবেই যেতে দিচ্ছিলো না। একবার চুরি করে একটু গিয়েছিলাম তারপর বাসায় ধরা পড়ে সেকি বকা! কিন্তু মনে আছে কলমে লড়াই করেছিলাম। তবে সে সময় আমার প্রিয় ভাই বোনেরা থামেনি কেউ। তারা রাজপথ রঞ্জিত করে তাদের দাবি আদায় করে ছেড়েছিল। ওদের মতো সাহসী আমি আর কাউকে দেখিনি।
-আচ্ছা আম্মু, এখন যদি এমন যুদ্ধ হয় তাহলে আমাকে যেতে দেবে তুমি?
– অবশ্যই মা! তোমার সাথে আমিও যাবো। একটা কথা সবসময় মনে রাখবে, “ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় জেনেও অন্যায় কে অন্যায় বলার ক্ষমতাই মানুষ কে মানুষ বানায়।”
